https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7
ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে সকল জেলায় কমিটি গঠন নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন শুরু করেছে সংগঠনটি। শনিবার কুষ্টিয়া জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১৫টি জেলায় কমিটি ঘোষণা করতে পারে তারা।
তবে দেশের ৬৪টি জেলায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাঁরা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন।
গত শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেলের স্বাক্ষরে কুষ্টিয়া জেলায় ১১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গত ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলন পরিচালনায় ৮ জুলাই ৬৫ সদস্যের সমন্বয়ক টিম গঠন করা হয়, যা পরে ৩ আগস্ট বাড়িয়ে ১৫৮ সদস্যের করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় ২২ অক্টোবর রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের সমন্বয়ক টিম বিলুপ্ত করে চার সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। নতুন কমিটিতে হাসনাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক, আরিফ সোহেলকে সদস্যসচিব, আবদুল হান্নান মাসউদকে মুখ্য সংগঠক ও উমামা ফাতেমাকে মুখপাত্র করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, ভুয়া সমন্বয়ক পরিচয়ে কেউ যেন অপকর্মে লিপ্ত না হতে পারে, সেই লক্ষ্যে সংগঠনের কাঠামো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিকে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া হবে। এই কমিটির প্রধান দুটি লক্ষ্য হচ্ছে অভ্যুত্থানের শক্তিকে সংগঠিত করা এবং ‘মুজিববাদী অপশক্তি’কে দেশ থেকে উচ্ছেদ করা।
এখন জেলায় জেলায় কমিটি গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রাথমিকভাবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ১৫টির মতো জেলায় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল। ডিসেম্বরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রথমদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর ব্যানারটি অকার্যকর হবে। তবে সরকার পতনের পর ১২ আগস্ট টিএসসি মিলনায়তনে ৩৫টি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যানারটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের জানান, আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই ব্যানার ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত করেছে। দেশের মানুষ মনে করে, এই ব্যানারের কার্যক্রম এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ব্যানার রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে না বলে জানান তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণসহ নানা ইস্যুতে কিছুদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি পালন করছে, যা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।