
হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের শেষ নবী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ পুরুষ হিসেবে পরিচিত।ইসলামিক আদর্শের মূর্ত প্রতীক তাঁর জীবন ও আদর্শ মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশক। তিনি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। খুব অল্প বয়সে তিনি পিতামাতাকে হারান এবং দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং পরে চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন।
ইসলামিক আদর্শের মূর্ত প্রতীক ছেলেবেলা থেকেই হযরত মুহাম্মদ (সা.) সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য মক্কার মানুষের কাছে “আল-আমিন” (বিশ্বস্ত) এবং “আল-সাদিক” (সত্যবাদী) নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি মানুষের প্রতি উদার এবং নম্র ছিলেন এবং সবসময় গরিব ও অসহায়দের সাহায্য করতেন।
৪০ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নবুয়তের দায়িত্ব পান। ইসলামিক আদর্শের মূর্ত প্রতীক তাঁর উপর প্রথম ওহী নাযিল হয় গুহা হেরা পর্বতে, যা ছিল “ইকরা” (পাঠ করো) — এটি তাকে কুরআন শিক্ষার সূচনা করেছিল। এরপর থেকে তিনি মক্কার মানুষদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত ছড়াতে শুরু করেন। প্রথমে তাঁর পরিবারের লোকজন ও কাছের বন্ধু-বান্ধবরা ইসলাম গ্রহণ করেন।
তারপর ধীরে ধীরে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মক্কার কুরাইশরা এই ধর্ম গ্রহণ করেনি এবং ইসলামের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করতে শুরু করে। তাঁর এবং মুসলমানদের উপর নানা নির্যাতন চলতে থাকে। অবশেষে, আল্লাহর নির্দেশে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় তিনি একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।
মদিনায় বসবাসের সময় তিনি একাধিক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন, তবে সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মানবিক নীতির প্রচার চালান। তাঁর জীবনব্যাপী শিক্ষা, নৈতিকতা, এবং মানুষের প্রতি উদারতা ইসলামিক জীবনধারার মূল উৎস হয়ে আছে। ৬৩ বছর বয়সে, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, তিনি ইন্তেকাল করেন।
আজও মুসলিমরা তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে চলেছে এবং তাঁর আদর্শকে নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করে।


