রাশিয়ার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র: নতুন হুমকি এবং এর শক্তি
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে গত বৃহস্পতিবার রুশ বিমান হামলায় এক অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ ঘটে, যা তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে। এতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী, যার ক্ষমতা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা একে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে, পশ্চিমা কর্মকর্তারা এটি অস্বীকার করেছেন, বলছেন যে, এমন হামলার ক্ষেত্রে পারমাণবিক সতর্কতা জারি করা হতো।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হামলার পর বলেন, রাশিয়া নতুন প্রচলিত মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক উৎক্ষেপণ করেছে। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ম্যাক ১০ গতিতে চলে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ কিলোমিটার গতি অর্জন করে। পুতিন দাবি করেছেন, বর্তমানে এই অস্ত্র প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এক ধরনের নতুন আইসিবিএম হতে পারে, যার গতি এবং কার্যক্ষমতা অত্যন্ত উচ্চমানের। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৫ মিনিটে ১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিনিপ্রোতে পৌঁছেছে এবং এতে ছয়টি ওয়ারহেড রয়েছে, যার প্রতিটিতে আরও ছয়টি সাব-মিউনিশন রয়েছে।
পুতিনের ভাষ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তীব্র গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার হতে পারে এবং এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।
এই ধরনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগে গতির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। সামরিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মোকাবিলা করতে পারে না।