প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৫, ২০২৬, ৭:৩৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১৩, ২০২৪, ৯:২৫ পি.এম
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরে নিখোঁজ শিশু সাদিয়ার লাশ রাতের দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে কানের দুল চুরি করার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকোমরা গ্রামের"সোনার দুলের জন্য হত্যা" চম্পা খাতুনের চার বছরের মেয়ে খেলতে আসে সাত বছরের সাদিয়া খাতুন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাদিয়া চম্পার বাড়িতে খেলতে গেলে, রাতের দিকে চম্পার বাড়ির পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাদিয়ার কানে থাকা সোনার দুলের লোভে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সাদিয়ার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে চম্পা খাতুনকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মারা যাওয়া সাদিয়া ঝিকরগাছার মাটিকোমরা গ্রামের বাবলুর রহমানের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। বাবলুর রহমান কৃষিকাজ করেন। আটক চম্পা (২২) মাটিকোমরা গ্রামের আনিসুর রহমানের মেয়ে এবং বর্তমানে বাবার বাড়িতে তার চার বছরের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। চম্পার বাবা মালয়েশিয়ায় কাজ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে সাদিয়া হঠাৎ নিখোঁজ হয়। চম্পাসহ প্রতিবেশী বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সাদিয়ার বাবা ঝিকরগাছা থানায় অভিযোগ করেন এবং চম্পা খাতুনের প্রতি সন্দেহের কথা পুলিশকে জানান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চম্পাকে আটক করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাড়ির পাশের বাগান থেকে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঝিকরগাছা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, সাদিয়া ও চম্পার মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল এবং সাদিয়া প্রায়ই চম্পার বাড়িতে খেলতে যেত। গতকালও সাদিয়া খেলতে যায় এবং তার কানে সোনার দুল ছিল। ওই দুলের লোভে চম্পা সাদিয়াকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশে বাগানে নিয়ে গিয়ে তার কান থেকে দুল ছিনিয়ে নেয় এবং পরে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করে। চম্পা মাদকাসক্ত এবং পূর্বে বিয়ে করলেও তালাকপ্রাপ্ত। তার একটি চার বছরের মেয়ে রয়েছে, যাকে নিয়ে চম্পা বাবার বাড়িতে থাকে।
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত