
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম। ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
এক শোকাবহ সন্ধ্যা নেমে এলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে পাঁচজন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও অন্তত ১৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায়, ঠিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে, সীতাকুণ্ড পৌর সদরের পন্থিছিলা বটতল এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বাসটি দ্রুত গতিতে চলছিল এবং একটি ড্রামট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। এই ওভারটেক করার সময়ই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং যাত্রীবাহী বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে, ঘটনাস্থলেই চারজন যাত্রীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. জাকির রাব্বানী এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণ, হাইওয়ে পুলিশ এবং সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পর আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, তাদের হাসপাতালে বর্তমানে ১৫ জন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ১৫ জনের বাইরেও আরও কিছু আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানান, নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বাসটি প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়। এরপরই সেটি গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের উদ্ধারে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে একযোগে কাজ করেন। তাদের তৎপরতায় বহু যাত্রীর জীবন রক্ষা পেয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা এবং আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিহত ও আহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। এই সড়কে প্রায়ই দ্রুত গতি এবং বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আজকের এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল। একটি ড্রামট্রাককে অতিক্রম করতে গিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের এতগুলো প্রাণ কেড়ে নেওয়া—এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার মান নিয়ে ভাবার অবকাশ তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
এই ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি bdnewsnetwork.com গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং দুর্ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেলে দ্রুত তা প্রকাশ করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে আমাদের সংবাদ মাধ্যম।