
ঢাকার"রিকশা গ্যারেজ শিশুর মৃত্যু" রামপুরায় একটি রিকশা গ্যারেজের দেয়াল ধসে পাঁচ বছরের একটি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।"রিকশা গ্যারেজ শিশুর মৃত্যু" মায়ের সঙ্গে হাঁটতে থাকা অবস্থায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে টিভি সেন্টার রোডের কুঞ্জঘর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম জিসান ভুঁইয়া (৫)। তার বাবা মিরাজ ভুঁইয়া পেশায় একজন ভ্যানচালক। পরিবারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে টিভি সেন্টার রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
নিহতের মামা নয়ন রাজ জানান, জিসানের মা ঝুমুর বেগম সকালে চা কেনার জন্য দুই সন্তানকে নিয়ে বের হন। কোলে ছিল তার দুই বছরের মেয়ে ফাতেমা, আর জিসান পাশে হাঁটছিল। বাসার কাছাকাছি স্থানীয় আনিসের রিকশা গ্যারেজের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় সীমানা দেয়ালের একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে এবং জিসানের ওপর চাপা দেয়।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপুরা থানার এসআই আবু তারেক দিপু বলেন, “টিভি সেন্টার রোডে একটি গ্যারেজের সীমানা দেয়ালের পাশে হাঁটার সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে, যা শিশুটির মৃত্যুর কারণ হয়।”
জান্নাতে বাবামায়ের সন্তানদের পুনর্মিলন ঈমানদাররা যারা জান্নাত লাভ করবে, তাদের সন্তানরাও যদি ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় এবং জান্নাত অর্জন করে, তবে আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তাদের একত্রিত করবেন। জান্নাতে বাবামায়ের সন্তানদের পুনর্মিলন এটি জান্নাতের অন্যতম নেয়ামত এবং পুরস্কার।
যদি সন্তানদের আমল কমও হয় বা তারা জান্নাতে মর্যাদার স্তরে পিছিয়ে থাকে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাবেন। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্তানিরা ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে মিলিত করব এবং তাদের কর্ম থেকে কিছুই কমানো হবে না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের কাজের জন্য দায়ী।”
(সুরা তুর: ২১)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা ঈমানদার বাবা-মায়ের মর্যাদার স্তরে তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে যাবেন, যেন তাদের সন্তানদের পেয়ে বাবা-মায়ের হৃদয় আনন্দে পরিপূর্ণ হয়।
জান্নাতে প্রবেশের পর জান্নাতবাসীরা তাদের প্রিয়জনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। যদি প্রিয়জনরা নিম্ন স্তরে থাকে, আল্লাহ তাআলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে একই স্তরে নিয়ে আসবেন।
কোরআনের অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তাদের রবের সন্তুষ্টি লাভের জন্য কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত। সেখানে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ ছিল তারাও।”
(সুরা রা’দ: ২২-২৩)
এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে, ঈমান ও সৎকর্মের দ্বারা জান্নাতে আত্মীয়স্বজনদের পুনর্মিলন সম্ভব। যদি কেউ আমলে পিছিয়ে থাকে, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। তবে এ নেয়ামত শুধুমাত্র ঈমানদারদের জন্য প্রযোজ্য।
আরশ বহনকারী ফেরেশতারাও মুমিনদের জন্য প্রার্থনা করেন, যাতে তারা এবং তাদের সৎকর্মশীল আত্মীয়স্বজন জান্নাতে একত্র হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে আমাদের রব, তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি করেছেন, এবং তাদের সৎকর্মপরায়ণ পিতামাতা, স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও।”
(সুরা গাফির: ৭-৮)
সুতরাং, ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে জান্নাতে বাবা-মা ও সন্তানরা একত্রিত হওয়া আল্লাহর একটি বড় রহমত এবং জান্নাতের অনন্য নেয়ামত।