
দিনাজপুর, ২২ নভেম্বর ২০২৫: (বিডি নিউজ নেটওয়ার্ক) দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দিরের রাসমেলায় যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের নানি-নাতনিসহ চারজন। শনিবার (২২ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে দিনাজপুর সদর উপজেলার খোসালপুর (গম গবেষণা কেন্দ্রসংলগ্ন) এলাকায় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে একটি মিনিবাসের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ঘটনার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইজিবাইকে থাকা যাত্রীরা সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সপরিবারে কাহারোল কান্তনগরে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী রাসমেলায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
নিহত চারজনের মধ্যে রয়েছেন চিরিরবন্দর উপজেলার মাঝিরা গ্রামের ১৫ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তার এবং সদর উপজেলার খানপুর কুতৈর এলাকার ৫৫ বছর বয়সী মর্জিনা খাতুন, ৩৫ বছর বয়সী তানজিনা বেগম ও ৭ বছর বয়সী শাম্মী আক্তার। মর্জিনা খাতুন ও সাদিয়া আক্তার সম্পর্কে নানি ও নাতনি। দুর্ঘটনার শিকার এই পরিবারটির রাসমেলায় অংশ নেওয়ার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হলো।
খোসালপুর এলাকার চা–দোকানি কামাল হোসেন জানান, বীরগঞ্জ থেকে দিনাজপুরের দিকে আসা দ্রুতগামী মিনিবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ইজিবাইকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এরপর মিনিবাসটি তাঁদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ধাওয়া করে মিনিবাসটিকে আটক করতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে গাড়ির চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ইজিবাইকের আরোহী মকবুল হোসেন (৭৯), যিনি তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাসমেলায় যাচ্ছিলেন, তিনি ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, গম গবেষণা কেন্দ্রের অফিস পার হওয়ার পরই মিনিবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও আটকে পড়া যাত্রীদের কারণে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, এতে সড়কের দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। দিনাজপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে এবং আরও একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। স্থানীয়রা মিনিবাসটি আটক করেছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যান চলাচল শুরু করার জন্য কাজ করছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো নিদারুণ শোকের আহাজারিতে।