
নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ [bdnewsnetwork.com]
মঙ্গলবার ভোরে যখন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘন কুয়াশার চাদর, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মৌচাক এলাকায় বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সবজিবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আজ সকালে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় ঘটে, যা পুরো অঞ্চলে শোকের ছায়া ফেলেছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত দুজন হলেন পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফুল মো. মুক্তাকিম (৪২) এবং পিকআপে থাকা সবজি ব্যবসায়ী লিটন গাজী (৫৫)। আশরাফুলের বাড়ি সিলেটের শাহপরান এলাকায় এবং লিটন গাজী কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। দুজনেই জীবিকার তাগিদে এই মহাসড়ক ব্যবহার করতেন।
সবজিবোঝাই পিকআপ ভ্যানটি সিলেট অভিমুখে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ পিকআপ ভ্যানটি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় পৌঁছায়। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির প্রবল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পিকআপ ভ্যানটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফুল মো. মুক্তাকিম মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় সবজি ব্যবসায়ী লিটন গাজীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুর একটার দিকে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তমাল সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহতদের মধ্যে চালক আশরাফুলের লাশ বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় রাখা আছে। অন্যদিকে, লিটন গাজীর লাশটি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
দুর্ঘটনার পর পরই ঘাতক ট্রাকের চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ট্রাক ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করেছে। এসআই তমাল সরকার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। হাইওয়ে পুলিশ পলাতক ট্রাকচালককে খুঁজে বের করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনার খবর আসছে। আজকের এই ঘটনাটি মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলল। বিশেষ করে শীতকালে কুয়াশার মধ্যে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফগ লাইটের ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, মহাসড়কে আরও কঠোর নজরদারি ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থামানো কঠিন।
bdnewsnetwork.com এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।