
গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে এক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার দুবলা এলাকায় রেললাইনে দুর্বৃত্তদের আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। যদিও এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও জনগুরুত্বপূর্ণ রেলপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
১২ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় স্টেশন সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা দুবলা এলাকার রেললাইনের ওপর প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাতের অন্ধকারে ঘটা এই ঘটনা মুহূর্তেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আখাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। তবে পুলিশের পৌঁছানোর আগেই নাশকতার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে চম্পট দেয়। রেললাইনের ওপর দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনের কারণে দ্রুত ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা দুটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। চট্টগ্রামগামী দ্রুতগতির তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে সদর উপজেলার পঘাচং এলাকায় থামিয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে, একই রুটের অপর আন্তঃনগর ট্রেন বিজয় এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার, সাকির জাহান, প্রথম আলোকে দেওয়া তথ্যে নিশ্চিত করেন যে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অপেক্ষমাণ ছিল এবং রাত ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর থেকে বোঝা যায়, প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটিও প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আটকে থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান যে খবর পেয়েই দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। তিনি আরও জানান, রেললাইনটিকে পুনরায় ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তুলতে আনুমানিক ১০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।
এই ধরনের নাশকতামূলক কার্যকলাপের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে থাকা দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।