
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫,[bdnewsnetwork.com]
২০০৯ সালের বহুল আলোচিত বিডিআর (তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস) হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) হতে পারে, যদি এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় আসে। এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি নিশ্চিত করেছেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসিকিউশনের কাছে এসেছে এবং সেগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তাজুল ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গতকাল রোববার জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরপরই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, "২০০৯ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে এসেছে। আমরা গুরুত্ব সহকারে এই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখব।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের বিস্তারিত প্রতিবেদনও তাঁরা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। তাজুল ইসলামের ভাষ্যমতে, "যদি আমাদের কাছে মনে হয়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডটি সুনির্দিষ্টভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে, তবে নিশ্চিতভাবেই এখানে (আইসিটি-তে) এর বিচার হবে। অন্যথায়, দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইনেও অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হতে পারে।"
তাজুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যেহেতু কারা অপরাধী ছিল, কারা মূল পরিকল্পনাকারী ছিল, মদদদাতা ছিল এবং এই ভয়াবহ ঘটনার সুবিধাভোগী ছিল—এসব বিষয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে, তাই এর মাধ্যমে জড়িতদের বিচারও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে ওই প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় একটি অসাধারণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বুকে একসঙ্গে এতজন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না, এটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর মনোবলে চরম আঘাত হেনেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এর সঠিক তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, "এই সরকার সেই কাজটি করেছে। জাতির সামনে উন্মোচন করেছে যে, পেছনে কারা মাস্টারমাইন্ড ছিল, কারা হত্যাকারী ছিল এবং কারা এই বেনিফিশিয়ারি।"
তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাঁরা এতদিন বিচারের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন, তাঁদের বিচার নিশ্চিত করার একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, অতীতে এই ঘটনায় বিচার সম্পন্ন করে যাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যদি কোনো ব্যক্তি ইনজাস্টিসের (অন্যায়) শিকার হয়ে থাকেন, সেই তথ্যও নতুন প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যেতে পারে।
সবশেষে, তিনি ২০০৯ সালের এই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যের সত্য উদ্ঘাটনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।