অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রবাসীদের জন্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ উদ্যোগ তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ড. ইউনূস বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি হলো বেসরকারি খাত। আমরা প্রবাসীদের এই খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করছি।”
রবিবার (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে এই ভাষণ সম্প্রচারিত হয়। ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে আলোচনার পর সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, “আমরা প্রবাসীদের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছি। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রবাসীরা যেভাবে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক সফরে ১৮ হাজার বাংলাদেশির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি মিলেছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। প্রবাসীদের জন্য নতুন দরজা উন্মুক্ত হচ্ছে।”
বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। ড. ইউনূস বলেন, “মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া আমাদের আবেদন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। ইন্দোনেশিয়া আমাকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।”
তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তুরস্ক ঢাকায় টার্কিশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (TICA)-এর অফিস স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আপনাদের বিনিয়োগ, পরামর্শ, এবং সহযোগিতা দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে।”