
নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ [bdnewsnetwork.com]
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আবারও ঝরল প্রাণ। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোড়া গুলিতে সবুজ মিয়া (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে। পাটগ্রাম উপজেলার জগৎবেড় ইউনিয়নের শমসেরনগর এলাকার পচাভান্ডার (পচাকাটা) সীমান্তে এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সবুজ মিয়া পচাভান্ডার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তথ্যমতে, বুধবার রাতে সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি গরু আনার উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছাকাছি শূন্যরেখায় প্রবেশ করেন। এ সময় শমসেরনগর এলাকার পচাকাটা সীমান্তের ৮৬৪ ও ৮৬৫ নম্বর মূল সীমানা পিলারের মাঝামাঝি ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের টহল দলের মুখোমুখি হন তারা। ভারতের ১৫৬ চেনাকাটা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।
বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন সবুজ মিয়া। আশপাশের অন্যরা কোনোমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সবুজ মিয়াকে বাঁচাতে পারেননি। ঘটনার পরপরই বিএসএফের সদস্যরা নিহত সবুজের লাশ নিয়ে যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত হত্যার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। লালমনিরহাট ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুজাহিদ মাসুম এই বিষয়ে জানান, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, নিহত সবুজ মিয়ার লাশ বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাথাভাঙ্গা থানা থেকে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুজাহিদ মাসুম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে এই সীমান্ত হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি। একই সঙ্গে সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধের লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে অতিসত্বর একটি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।"
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এ ধরনের বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এমন নির্মম পদক্ষেপ বারবারই দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনাগুলো স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
নিহত সবুজ মিয়ার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত লাশ ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে। বিজিবি আশা করছে, দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে এবং নিহত সবুজের লাশ দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। লালমনিরহাট সীমান্ত হত্যার এই ঘটনা দুই দেশের বন্ধুত্বের পথে একটি কালো দাগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকলের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এই ধরনের নির্মমতা আর দেখতে হবে না।