
নিজস্ব প্রতিবেদক | কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি (দায়িত্বপ্রাপ্ত) জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। নেতা জাহিদুল আলম হত্যা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। নেতা জাহিদুল আলম হত্যা পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে ভাড়াটে হিসেবে এসে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নিজ বাগানবাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হন জাহিদুল আলম। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া (৩৮) গুরুতর আহত হন। তাঁকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে তিন দিন আগে তাঁরা ঢাকা থেকে মিঠামইনে আসেন। হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গভীর রাতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা থেকে এনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পাশাপাশি হত্যার পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মিঠামইন সদর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহিদুল আলম ও বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া। পথিমধ্যে বেড়িবাঁধ এলাকায় তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জাহিদুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের বড় ভাই তপন শিকদার বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, জাহিদুল আলম মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মিঠামইনের বেড়িবাঁধ এলাকার কয়েকটি মেহগনিগাছ কাটার অভিযোগে তাঁর দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় এক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে ওই ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। পরে চলতি মাসের ৫ জুলাই তাঁর পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, কিশোরগঞ্জ-৪ (মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান শোক প্রকাশ করে বলেন, জাহিদুল আলম দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।