সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজ মুনতাহা লাশ উদ্ধার নিখোঁজের সাত দিন পর শিশু মুনতাহা (৫)-এর লাশ বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মুনতাহা সদর ইউনিয়নের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমদের মেয়ে।
রোববার ভোরে নিজ বাড়ির পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খালেদ আহমদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ মুনতাহা লাশ উদ্ধার ৩ নভেম্বর সকালে মুনতাহা তার বাবার সঙ্গে একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফিরে এসে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়, কিন্তু তখন তাকে আর পাওয়া যায়নি। শিশুটির সন্ধানে ফেসবুকেও অনেকে পোস্ট করেছিলেন।
শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবার দাবি করে আসছিল, মুনতাহাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল এবং মুনতাহার সন্ধানদাতাকে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পরিবার।
সিলেটের”মুনতাহা মামলার আসামির মৃত্যু ” কানাইঘাটে শিশু মুনতাহা (৬) হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকে মুনতাহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি কুতুবজান বিবির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে।”মুনতাহা মামলার আসামির মৃত্যু “
তবে পুলিশ বলছে, কুতুবজান বিবি মুনতাহা হত্যা মামলার কোনও আসামি নন। তিনি হত্যা মামলার গ্রেফতার আসামি আলিফজান বিবির মা ও শামীমা বেগম মার্জিয়ার নানি।”মুনতাহা মামলার আসামির মৃত্যু ” ৮৫ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন বলেন, কুতুবজান বিবি শিশু মুনতাহা হত্যা মামলার আসামী নন। বৃহস্পতিবার সকালে কানাইঘাটের নিজ চাউড়া উত্তর গ্রামের ভাইয়ের বাড়িতে মারা গেছেন। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট জেলার সহকারী পুলিশ সুপার সম্রাট তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে মুনতাহা হত্যা মামলার আসামি কুতুবজান বিবির মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, কুতুবজান বিবি মামলার আসামি নন। মূলত তিনি আলোচিত মুনতাহা হত্যা মামলার গ্রেফতার আসামি আলিফজান বিবির মা। তিনি ৮৫ বছর বয়সে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে তার আপন ছোট ভাই অলিউর রহমানের বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন।
তিনি বলেন, আলোচিত মুনতাহা হত্যা মামলার সব আসামি আদালতের রিমান্ডের নির্দেশ মোতাবেক বর্তমানে কানাইঘাট থানা হাজতে রয়েছেন।
এদিকে, সোমবার (১১ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার এসআই শামসুল আরেফিন জিহাদ আদালতে আসামিদের হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী মো. আবু জাহের বাদল পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া মুনতাহা নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা শামীম আহমদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করেন। সোমবার এ মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে শুনানি শেষে বিচারক মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করেন।
নিহত মুনতাহা কানাইঘাট সদরের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- কানাইঘাট থানার বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের আলিফজান (৫৫), তার মেয়ে শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫), একই এলাকায় ইসলাম উদ্দিন (৪০) ও নাজমা বেগম (৩৫)।
জানা যায়, মুনতাহার নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে আলোচনা চলছিল। শিশুটিকে উদ্ধারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পরিবারসহ কয়েকজন প্রবাসী। এর মধ্যে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ৩ নভেম্বর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। রবিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে শিশু মুনতাহার মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে, ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফিরে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিল মুনতাহা। কিন্তু বিকাল হলেও বাড়িতে না ফেরায় খোঁজ নিতে গিয়ে আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর থেকে পরিবার দাবি করে আসছিল, পরিকল্পিতভাবে তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে।