[bdnewsnetwork.com]যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান রোহিঙ্গা শরণার্থী বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা পৌঁছাবেন এবং এই সফরে তিনি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
ঢাকায় যুক্তরাজ্য হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে, ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান তাঁর সফরের সময় যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তামূলক কার্যক্রম এবং নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা প্রকল্পগুলো।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিনেই তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সেখানে তিনি দিনব্যাপী শরণার্থীশিবির পরিদর্শন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন। ঢাকায় ফিরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। এই বৈঠকগুলোতে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতিসহ দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া, জেনি চ্যাপম্যান অনিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কিত যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সহযোগিতার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল আলোচনায়ও অংশ নেবেন।
এই সফরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সহায়তা ঘোষণার পরই এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের এই নতুন মানবিক সহায়তা প্যাকেজটি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজনীয় সহায়তা (যেমন খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়) প্রদানে কাজে লাগবে।
যুক্তরাজ্য সরকার এখনো মনে করে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এলেই কেবল তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা উচিত।
সফরের প্রাক্কালে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী ব্যারোনেস চ্যাপম্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "যুক্তরাজ্য গর্বের সঙ্গে সত্যিকারের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে এই দুই দেশের যৌথ কর্মকাণ্ড উভয় দেশের জন্য বাস্তব ও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা ও গুরুত্বকে তুলে ধরে।