প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৪, ২০২৬, ৬:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৩, ২০২৪, ১২:০৩ পি.এম
অনলাইন ডেক্স: কিশোরগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে,ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ জন এবং একই সময় ৩ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ জন চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৭৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ৫১৭ জন রোগীকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
জেলায় ছয়টি হাসপাতালে বর্তমানে ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন, কিশোরগঞ্জ-২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, সিভিল সার্জন জানান, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত কারো মৃত্যু হয়নি।
বাংলাদেশের ইতিহাস: এক গৌরবময় যাত্রা। বাংলাদেশের ইতিহাস এক দীর্ঘ সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার গল্প। এই দেশের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের ইতিহাসকে প্রাচীন, মধ্যযুগ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানি শাসন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অধ্যায়গুলোতে ভাগ করে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো।
প্রাচীনকাল: সভ্যতার বিকাশ
বাংলার ইতিহাস শুরু হয় প্রাচীন সভ্যতা থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ সালের দিকে এই অঞ্চলে মানুষের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়।
- মহাসাংঘিক সভ্যতা:
- বাংলার প্রাচীন জনপদ যেমন পুণ্ড্রবর্ধন, গঙ্গারিডি, সমতট, এবং বরেন্দ্র অঞ্চলে সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে বাংলার প্রথম স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।
- পাল সাম্রাজ্য:
- পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- এই সময়ে নালন্দা ও বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচীন বিশ্বে জ্ঞানের কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত হয়।
- সেন সাম্রাজ্য:
- পালদের পতনের পর সেন রাজবংশ বাংলার ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- সেন যুগে হিন্দু সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটে।
মধ্যযুগ: মুসলিম শাসনের উত্থান
১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির বঙ্গজয় বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটায়।
- সুলতানি যুগ (১২০৪-১৫৭৬):
- বাংলায় মুসলিম শাসনের সময়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়ন ঘটে।
- ইসলাম ধর্মের প্রসারে সুফি সাধুদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- মুগল যুগ (১৫৭৬-১৭৫৭):
- মুগল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকা হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর।
- বাংলার মসলিন কাপড় তখন ইউরোপীয় বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- মুগল শাসনের সময়ে বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
ব্রিটিশ শাসনকাল: শোষণ ও বিদ্রোহ যেমন
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা ঘটে।
- নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-১৮৬০):
- ব্রিটিশদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকেরা বিদ্রোহ করেন।
- বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৫-১৯১১):
- লর্ড কার্জনের সিদ্ধান্তে ১৯০৫ সালে বাংলাকে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় বিভক্ত করা হয়।
- বাংলার জনগণের তীব্র প্রতিবাদে এই বিভাজন ১৯১১ সালে বাতিল করা হয়।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদ:
- বঙ্গবাসী ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাকিস্তানি শাসন: বঞ্চনার যুগ
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের ফলে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়।
- ভাষা আন্দোলন (১৯৫২):
- মাতৃভাষা বাংলার অধিকার রক্ষার জন্য হাজারো মানুষ প্রাণ দেয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
- ছয় দফা আন্দোলন (১৯৬৬):
- শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় দফা দাবি পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি স্থাপন করে।
- ১৯৭০-এর নির্বাচন:
- আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে, কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
মুক্তিযুদ্ধ: স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।
- ২৬ মার্চ ১৯৭১:
- রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ:
- প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হন এবং ২ লক্ষ নারী নির্যাতিত হন।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১:
- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
- প্রথম দিকের উন্নয়ন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।
- স্বৈরশাসন ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা:
- ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
- আধুনিক উন্নয়ন:
- পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ জাতিকে একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে এর সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িত।
- ভাষা ও সাহিত্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এবং লালন শাহ বাংলার সাহিত্যে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- সঙ্গীত ও নৃত্য:
- ভাওয়াইয়া, জারি-সারি, এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত বাংলার সঙ্গীত ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের ইতিহাস শুধুমাত্র সংগ্রামের ইতিহাস নয়, এটি একটি জাতির পুনর্জন্ম, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। প্রতিটি অধ্যায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাদের পরিচয় গৌরবময় সংগ্রামের ফল।