
টোকিও, এএফপি। প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ [bdnewsnetwork.com]
জাপানের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়ে নিয়েছে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় 'হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন' বা 'মানুষ ধোয়ার যন্ত্র', যা স্নানের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। গত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ওয়ার্ল্ড এক্সপো নামের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি, যার আনুষ্ঠানিক নাম 'হিউম্যান ওয়াশার ফর ফিউচার'। প্রদর্শনীতে এটি ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে যে বিপুল আগ্রহ এবং কৌতূহল দেখা গিয়েছিল, তা থেকেই স্পষ্ট যে প্রযুক্তি এবার মানুষের ব্যক্তিগত যত্নের ক্ষেত্রে এক নতুন পথে হাঁটতে চলেছে।
জাপানি কোম্পানি সায়েন্স (Science) এই যুগান্তকারী যন্ত্রটি তৈরি করেছে। মজার বিষয় হলো, এটি ১৯৭০ সালের ওসাকা এক্সপোতে প্রদর্শিত একটি পুরনো মডেলের আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ। এই যন্ত্রটি প্রচলিত ওয়াশিং মেশিনের মতো কাপড় নয়, বরং আস্ত একজন মানুষকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে দেবে।
এর কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সরল, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের ছোঁয়া রয়েছে এতে। ব্যবহারকারীকে প্রথমে যন্ত্রটির ক্যাপসুলের মতো পডের ভেতরে শুয়ে পড়তে হবে। এরপর ঢাকনা বন্ধ করলেই শুরু হবে স্বয়ংক্রিয় ধোয়ার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠবেন। তবে কাপড় ধোয়ার মেশিনের মতো কোনো ঝাঁকুনি বা 'স্পিন অপশন' এতে নেই, যা ব্যবহারকারীর আরাম নিশ্চিত করে।
শুধু শরীর পরিষ্কার করাই নয়, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সায়েন্সের মতে, এই যন্ত্র স্নান করার সময় এক বিশেষ প্রশান্তি এনে দেয়। সায়েন্সের মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা জোর দিয়ে বলেছেন, "এই যন্ত্রটি কেবল শরীরই পরিষ্কার করে না, আত্মাকেও সতেজ করে।" এর মধ্যে থাকা বিশেষ সেন্সরগুলি স্নানের সময় ব্যবহারকারীর হৃৎস্পন্দন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে। সেই সঙ্গে ভেতরে চলতে থাকা প্রশান্তিদায়ক সংগীত (মিউজিক) ব্যবহারকারীকে এক আরামদায়ক অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে অভাবনীয় সাফল্যের পর, সায়েন্স এবার এটিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য বাজারে এনেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামকরা রিসোর্ট কোম্পানি এই যন্ত্রটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করায় উৎপাদন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
ইতিমধ্যেই প্রথম যন্ত্রটি কিনে নিয়েছে ওসাকার একটি অভিজাত হোটেল। হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করেছে যে তারা তাদের অতিথিদের এই অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বিশেষ সেবা প্রদান করবে। এছাড়াও, জাপানের অন্যতম বৃহত্তম ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা ইয়ামাদা ডেনকি এই যন্ত্র কিনে তাদের আউটলেটে প্রদর্শনীর জন্য রেখেছে, যাতে গ্রাহকরা এই নতুন প্রযুক্তি দেখতে আকৃষ্ট হয়।
যন্ত্রটির প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণের একটি প্রধান কারণ এর দুষ্প্রাপ্যতা। সাচিকো মায়েকুরা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে মাত্র ৫০টি যন্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। ফলে যারা প্রথম দিকে এটি পাবেন, তারা এক বিরল প্রযুক্তির মালিক হবেন। প্রতিটি হিউম্যান ওয়াশিং মেশিনের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ইয়েন, যা প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমতুল্য।
এই প্রযুক্তি শুধু স্নানকে দ্রুত এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে না, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির এক নতুন ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল কীভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।