
চট্টগ্রাম সড়ক দুর্ঘটনা!
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রকাশক: প্রতিনিধি, বিডি নিউজ নেটওয়ার্ক (bdnewsnetwork.com) স্থান: রাউজান, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাজপথ আবারও রক্তে ভিজে উঠল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। এক নিমিষেই থেমে গেল দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত এক তরুণের জীবন। গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের চিকনদন্ডী ইউনিয়নের বড়দিঘির পাড় এলাকায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক সদস্যের লাশ। নিহতের মোটরসাইকেলটিও পড়েছিল পাশেই। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, তবে দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিহত যুবকের নাম দেলোয়ার হোসেন (২৯)। তিনি ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের মতিননগর চিকনছড়া এলাকার মোহাম্মদ মিরাজ মিয়ার সন্তান। তাঁর সঙ্গে পাওয়া পরিচয়পত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত সদস্য ছিলেন এবং ‘সেইলর’ পদে কর্মরত ছিলেন। একজন সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে দেশরক্ষার ব্রত নিয়ে যিনি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছিলেন, তাঁর এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় পথচারীরা দেলোয়ার হোসেনকে মোটরসাইকেলসহ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে রাউজান হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাফর আহমদের বক্তব্যে। তিনি বিডি নিউজ নেটওয়ার্ক-কে জানান, "নিহত ব্যক্তির মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে থেঁতলানো ছিল। দেখে মনে হচ্ছে কোনো দ্রুতগামী যানের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।" তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে প্রাপ্ত পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেইলর পদে কর্মরত ছিলেন। দেহের বিভিন্ন অংশের মারাত্মক জখম দেখে অনুমান করা যায়, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো আঘাতের ফল। হয়তো কোনো ভারী যানবাহন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বড়—কে বা কীসের ধাক্কায় এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল?
রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ উল্লাহ জানান, "প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে মোটরসাইকেল আরোহী দেলোয়ার হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তবে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য দেলোয়ার হোসেনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং দুর্ঘটনাস্থলের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই দুর্ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৌবাহিনীর একজন সদস্যের এমন অকালমৃত্যু চট্টগ্রামের সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রায়শই রাতের আঁধারে বা ভোরবেলায় বেপরোয়া গতির যানবাহন, বিশেষ করে ভারী ট্রাক বা লরিগুলো এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্ম দেয়। সাধারণ পথচারী এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্পিড কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং রাতের বেলা হাইওয়ে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের সেবায় নিয়োজিত এক তরুণের এমন করুণ পরিণতি যেন আর কারও জীবনে না আসে, সেই দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।