কিশোরগঞ্জে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় একটি অনিবন্ধিত প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক, কিশোরগঞ্জে চিকিৎসকসহ ১০জনের মামলা চিকিৎসকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূ রূপালী বেগমের মামাশ্বশুর মো. শরীফ মিয়া সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই মামলাটি করেন।
রোববার রাতে শহরতলীর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছে অবস্থিত আল-হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কিশোরগঞ্জে চিকিৎসকসহ ১০জনের মামলা মঙ্গলবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড়খালের পাড় এলাকার সৌদি প্রবাসী পলিন মিয়ার স্ত্রী রূপালী বেগমকে রোববার বিকালে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক ডা. আক্তার নাহার জ্যোতি সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে।
স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রূপালীকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা হয়নি। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় বের করে স্বজনদের কিছু না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১০টার দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে রূপালীর মৃতদেহ উদ্ধার করে স্বজন ও পুলিশ।
ঘটনার পর আল-হেরা হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা পালিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, অনভিজ্ঞ কারো মাধ্যমে অতিরিক্ত মাত্রার অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের ফলে রূপালী বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আল-হেরা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হসপিটাল সিলগালা করে দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।