
প্রকাশের তারিখ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৪৭ আন্তর্জাতিক ডেস্ক bdnewsnetwork.com
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদ-এর প্রবীণ খতিব শেখ একরিমা সাব্বির (৮৬)-এর বিরুদ্ধে 'উত্তেজনা ও উসকানি ছড়ানোর' অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে ইসরায়েল। শিগগিরই জেরুজালেমের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হবে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন ও শেখ একরিমা সাব্বিরের আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, মূল অভিযোগটি নিবন্ধিত হয় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নিহত হন হানিয়া। এরপরে প্রথম জুমার নামাজের খুৎবায় শেখ একরিমা সাব্বির প্রয়াত হানিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সমবেদনা জানান।
ইসরায়েলি প্রসিকিউটরের দল এই সমবেদনা জ্ঞাপনকে 'ধর্মীয় উসকানি' হিসেবে দেখছে এবং আদালত সম্প্রতি সেই অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। বর্তমানে অভিযোগ সংক্রান্ত বিবরণের পর্যালোচনা চলছে, যা শেষ হলেই বিচার কাজ শুরু হবে।
৮৬ বছর বয়সী শেখ একরিমা সাব্বিরের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যদিও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবুও তাঁকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একইসাথে তাঁর উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হানিয়া ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে খুৎবার সময় ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমালোচনার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত পূর্ব জেরুজালেম-এর আইনি অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক বিদ্যমান। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেমের দখল নেয় ইসরায়েল এবং পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি। জেরুজালেমের দখল নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের একটি আদালতে প্রখ্যাত একজন ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতার বিচার শুরু করা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি এবং মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আল-আকসার খতিবের বিচারকে ফিলিস্তিনিরা তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পরিচিতির ওপর আরও একটি আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।