1. abunayeem175@gmai.com : Abu Nayeem : Abu Nayeem
  2. sajibabunoman@gmail.com : abu noman : abu noman
  3. asikkhancoc085021@gmail.com : asik085021 :
  4. nshuvo195@gmail.com : Nasim Shuvo : Nasim Shuvo
  5. nomun.du@gmail.com : Agri Nomun : Agri Nomun
  6. rajib.naser@gmail.com : Abu Naser Rajib : Abu Naser Rajib
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১০:০২ অপরাহ্ন

হার্ড ইমিউনিটির পথে হাঁটলে কঠিন মূল্য দিতে হবে জনগণকে

বে-নজীর আহমেদ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বে-নজীর আহমেদের জন্ম ১৯৫৯ সালে গাইবান্ধায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে মাস্টার্স এবং চিকিৎসা অণুজীববিজ্ঞানে এমফিল করেন। সংক্রামক রোগ বিষয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা ও কর্মসূচি পরিচালনায় দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বিশেষত কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ, জলাতঙ্ক ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য সুবিদিত অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের লাইন ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক বে-নজীর। এ সময় কালাজ্বর, গোদরোগ এবং চৌষট্টি জেলায় বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা প্রদান কর্মসূচি পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার, কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসা এবং মহামারী মোকাবিলার উপায় হিসেবে হার্ড ইমিউনিটি ও লকডাউনসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর আমরা দুই মাসের বেশি সময় পার করেছি। প্রথম পর্যায়ে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা, গণপরিবহন বন্ধ এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মধ্য দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু দেশের চৌষট্টি জেলাতেই সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কঠিন সময়ে এসে সবকিছু শিথিল করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাপক হারে করোনার পরীক্ষা ও চিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে সরকার আসলে কি নীতিতে এগোচ্ছে সেটা যেমন স্পষ্ট নয়, তেমনি জনগণও সঠিক নির্দেশনা পাচ্ছে না। আপনি কী মনে করেন?

বে-নজীর আহমেদ : সরকার যথার্থভাবেই ২৬ মার্চ লকডাউনটা প্রয়োগ করেছিল। সারা বিশ্বেই লকডাউন একটা কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিপন্ন হয়েছে। এর কার্যকারিতা এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ সব মহাদেশেই দেখা গেছে। কিছু ঘাটতি, বিচ্যুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে লকডাউনই ছিল সবচেয়ে উপযোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুনির্দিষ্ট ছয়টি পয়েন্ট দিয়েছে, যেটা পূরণ করলে কোনো দেশ তার সামগ্রিক অংশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করতে পারে। আমার পর্যালোচনা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছয়টি পয়েন্ট বাংলাদেশ এখনো পূরণ করতে পারেনি। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসা। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সংক্রমণ বাড়ার পর্বে রয়েছে। আরেকটি শর্ত হলো, কোনো দেশের সব কেসকে টেস্ট করার সক্ষমতা। সারা দেশে করোনা পরীক্ষার হার বলছে আমরা সে সক্ষমতা অর্জন করিনি। এছাড়া দেশে যেসব রোগী শনাক্ত হচ্ছে তারা কাদের সংস্পর্শে আসছে সেসব তথ্য বা সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করা হচ্ছে না। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লেও তা মোটেই পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় লকডাউন তুলে নেওয়া বা শিথিল করা খুবই বিপজ্জনক।

দেশ রূপান্তর : সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বা আইইডিসিআর প্রথমে এককভাবে করোনা পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল। পরে বিভিন্ন ল্যাবরেটরিকে যুক্ত করা হয়। আইইডিসিআর এখন নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর দায়িত্ব বর্তেছে। কিন্তু তারা কীভাবে সারা দেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে বা করবে সে বিষয়গুলোও স্পষ্ট নয়। আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কি সমন্বয়হীনতা কাজ করছে। আপনার পর্যাবেক্ষণ কী?

বে-নজীর আহমেদ : এই সমস্যার মূল কারণ সিদ্ধান্তহীনতা কিংবা অন্য অর্থে বলা যায়, দূরদর্শিতার অভাব। দেশে কী পরিস্থিতি দাঁড়াতে পারে, কত টেস্ট করা লাগবে এবং সারা দেশে কীভাবে তা কাজ করবে সে সম্পর্কে শুরুর দিকের সিদ্ধান্তগুলো সংকীর্ণ ছিল। ভাবা হয়েছে, একটা ল্যাবই যথেষ্ট, একটা ল্যাবের সদস্যরাই সারা দেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে। এক্ষেত্রে আরেকটা বিবেচনা কাজ করেছে, সেটা বায়োসেফটি বা জৈবনিরাপত্তা। বায়োসেফটি বা জৈবনিরাপত্তা বলতে বিশ্বজুড়ে জীবাণু পরীক্ষা করার মানকে বোঝায়। তারা ভেবেছিলেন এটা একমাত্র আইইডিসিআরই নিশ্চিত করতে পারবে। এই দুটি বিষয়ের আলোকেই প্রথম দিকে সঠিক সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়নি। অথচ আমার জানামতে, বাংলাদেশের ১৫-২০টি ল্যাবে বায়োসেফটি বজায় রেখে পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে। কিন্তু সরকারের কাছে এ তথ্য ছিল না।

দেশ রূপান্তর : কাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে সে বিষয়েও আমরা সিদ্ধান্তহীনতা দেখেছি। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পরীক্ষার ফল দেওয়া নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। এখন ঢাকায় ১৭টি ও ঢাকার বাইরে ১৬টি নিয়ে করোনা পরীক্ষার মোট ল্যাবরেটরির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩টি। দৈনিক নমুনা পরীক্ষা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে। কিন্তু নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার গতি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান এমনকি পরীক্ষার কিটসহ অন্যান্য লজিস্টিকের অভাবের কথাও জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সংকটটা আসলে কী?

বে-নজীর আহমেদ : পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় কাদের পরীক্ষা করা হবে। সংক্রমণের সন্দেহভাজনদের মধ্যে একটি হলো, করোনা রোগীর সংস্পর্শে যারা আসছেন কিংবা করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে আসছেন, তাদের স্বাস্থ্য বিভাগ খুঁজে বের করবে। একে বলে ট্রেসিং। দ্বিতীয় বিষয় হলো, কোনো চিকিৎসক যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে করোনার উপসর্গ পান, তাহলে তিনি ওই রোগীকে রেফার করতে পারেন। তৃতীয় বিষয় হলো, কোনো ব্যক্তির যদি মনে হয়, তার করোনা হয়েছে, তাহলে নিজেই পরীক্ষা করাতে পারেন। এগুলো হলো কারও কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি। এ পদ্ধতি যদি ভালো কাজ না করে, সেক্ষেত্রে আপনি কিন্তু কেস মিস করবেন।

আরেকটি বিষয় হলো, নমুনা সংগ্রহ করা। আইইডিসিআর বলেছিল, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। আমি এর সঙ্গে একমত হতে পারিনি। আমি বলেছিলাম, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। কেননা, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা টেকসই পদ্ধতি হতে পারে না। সেটাই ঘটেছে। এক্ষেত্রে আরেকটি পদ্ধতি হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা। যেমনটি হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিভার ক্লিনিক। সেখানে জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে লোকজন আসছে। তাদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা। আরেকটি হতে পারত শহরগুলোতে নমুনা সংগ্রহের বুথ তৈরি করা। আর গ্রামাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে এ রকম বুথ হিসেবে কাজে লাগানো। ৬ হাজার-৮ হাজার লোকের জন্য এমন কেন্দ্র দেশজুড়েই ছড়িয়ে আছে।

আমাদের মতে পরীক্ষার ফল একই দিনে দিতে হবে। যেখানে নমুনা সংগ্রহ করা হবে, সেখানে একটা মোবাইল নম্বর থাকবে। যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাকে জানাতে হবে। সেটা এসএমএসের মাধ্যমে জানাতে হবে। আর পজিটিভ হলে তাকে কী করতে হবে, তা টেলিফোনে জানাতে হবে। এ ধরনের মেকানিজম দাঁড় করাতে হবে। এভাবে পুরো বিষয়টিকে যদি আমরা সমন্বয় না করি, একটা প্যাকেজের মধ্যে না আনি, তাহলে তো ব্যাকলক হবে। এটাই হয়েছে। আর ল্যাবের সংখ্যা আমরা আর বাড়াতে পারব না। আমরা ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছে গেছি। আর সর্বোচ্চ আট-দশটি ল্যাব আমরা করতে পারব। খুব বেশি হলে ৫০টা। অর্থাৎ প্রতি জেলায় একটা করেও ল্যাব করা যাচ্ছে না।

একটি ল্যাবকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে হলে আমাদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন ল্যাবগুলোতে পর্যাপ্ত পলিমারি চেইন রিঅ্যাকশন বা পিসিআর মেশিন রাখতে হবে। প্রত্যেকটা পিসিআরের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এক রানে সর্বোচ্চ ৮৪টা বা ৯০টা টেস্ট করা যাবে। তাহলে যদি তিনটি পিসিআর থাকে, তাহলে এক রানে আড়াইশ টেস্ট করা যাবে। আবার প্রত্যেকটা পিসিআর যদি কয়েক রান করে দিই, তাহলে এক দিনে দুই বা তিন হাজার টেস্ট করাও যাবে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যাকলক থাকত না। পাশাপাশি, নমুনা সংগ্রহের জন্য এখানেও বহু লোক লাগবে। আমাদের পর্যাপ্তসংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। আমরা যদি টেস্ট বাড়াতে চাই, তাহলে আমাদের অধিকসংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা স্বল্পমেয়াদের জন্য তাদের নিয়োগ দিতে পারি। তিন মাস কিংবা ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দিতে পারি।

দেশ রূপান্তর : এ ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন টেকনোলজিস্ট আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি অন্যান্য গবেষণাগার ও প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। তাদের তো স্বল্পমেয়াদের জন্য জরুরি নিয়োগ দেওয়া যায়।

বে-নজীর আহমেদ : অবশ্যই, নিয়োগ দেওয়া যায়। আবার অনেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাদেরও স্বল্পমেয়াদে নিয়োগ দেওয়া যেত। প্রয়োজনে তাদের ছোট আকারে ইফেকশন কন্ট্রোল ট্রেনিং দিতে হতো। যদি পর্যাপ্ত লোক না থাকে, তাহলে টেস্ট বাড়ানো যাবে না। আইইডিসিআরের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করার পেছনে কিন্তু তাদের এ অপর্যাপ্ত লোকবল অন্যতম কারণ। তাদের চিফ বায়োলজিস্ট থেকে অনেকেই আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। সেক্ষেত্রে প্ল্যান-বি বা ব্যাকআপ প্ল্যান থাকা দরকার ছিল। একই সঙ্গে আমাদের টেস্ট কিটের সরবরাহ ঠিক রাখা দরকার। লজিস্টিকস সাপ্লাই ও ম্যানেজমেন্ট, মেশিনারি ম্যানেজমেন্ট এবং ম্যানপাওয়ার ম্যানেজমেন্ট যদি ঠিক করা না যায়, তাহলে ডেডলক আরও বাড়বে।

দেশ রূপান্তর : আমরা এখন একটি বিষয় প্রায়ই শুনছি, সেটা হলো হার্ড ইমিউনিটি। এখন লকডাউন শিথিল করে, ঈদকে কেন্দ্র করে বিপণিবিতান-মার্কেট খুলে দিয়ে, মসজিদ খুলে দিয়ে, সরকারি সাধারণ ছুটি তুলে নিয়ে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক সংক্রমণের মারাত্মক আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন, আমরা হার্ড ইমিউনিটির দিকে যাচ্ছি। সহজ ভাষায় বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করুন।

বে-নজীর আহমেদ : হার্ড ইমিউনিটি ( (herd immunity) কথাটি এসেছে ভেড়ার পাল থেকে। যখন ভেড়ার সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তখন তাদের টিকা দেওয়া শুরু হলো। টিকা দিতে গিয়ে দেখা গেল যদি একশ ভেড়ার মধ্যে আশিটাকে টিকা দেওয়া যায়, তাহলে বাকি বিশটা ভেড়ার সংক্রমণ হয় না। তখন বিজ্ঞানীরা দেখলেন, এই সংক্রমিত আশিটা ভেড়া বাকি বিশটা ভেড়াকে বর্মাচ্ছন্নের মতো করে রাখে। অর্থাৎ এই ভেড়াগুলো বিশটা ভেড়াকে লুকিয়ে রাখে। সংক্রমণটা আর ছড়াতে পারে না। একেই বলে হার্ড ইমিউনিটি। এটা আমরা মানুষের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করি, যেমন বাচ্চাদের টিকা দেওয়া হয়। আমরা ডিপথেরিয়ার টিকা দিই, টিটেনাসের টিকা দিই, পোলিওর টিকা দিই। আমরা কিন্তু শতভাগ শিশুকে টিকা দিই না, সর্বোচ্চ ৯০ বা ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকা দেই। এখন যে শিশুদের ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার পাই না তার কারণ হলো, হার্ড ইমিউনিটির কারণে এ রোগটা আর হচ্ছে না। করোনার ক্ষেত্রে এখন হার্ড ইমিউনিটির ধারণাটা আসছে। ধারণাটা হলো, আমরা যদি সবকিছু ছেড়ে দিই, তাহলে আক্রান্ত হতে হতে হয়তো এই হার্ড ইমিউনিটিটা অর্জন হবে।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু বিপুল জনসংখ্যার দেশে ৮০-৯০ ভাগ মানুষকে সংক্রামিত হতে দিতে হলে যে কঠিন মূল্য দিতে হবে সেটা সামাল দেওয়া কীভাবে সম্ভব? স্বাস্থ্যসেবা খাত তো এত রোগী সামাল দিতে পারবে না। আর এত বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবার-পরিজন, জীবন-জীবিকা নিয়ে কীভাবে মহামারীর একটা ঘনীভূত রূপের ধকল সইবে? সরকার বা প্রশাসনও কি তেমন ঘনীভূত মহামারীর চাপ সামলাতে পারবে?

বে-নজীর আহমেদ : যখনই সংক্রমণ ছড়ায়, তখনই আমাদের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, ইমিউনিটি ডেভেলপ করে। কিন্তু সমস্যাটা হলো, আমাদের দেশে যদি হার্ড ইমিউনিটি হতে হয়, তাহলে শতকরা ৯০ ভাগ লোকের সংক্রমিত হতে হবে। এখন কি আমরা ৯০ ভাগ বা ১৫ কোটি লোক আক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত বসে থাকব বা অপেক্ষা করব? যদি তাতে রাজি হওয়া যায়, তাহলে হার্ড ইমিউনিটিতে কাজ হবে। এখন যদি ১৫ কোটি আক্রান্ত হয়, তাহলে বয়স্ক বা ষাটোর্ধ্ব ৫০ লাখ লোকের মধ্যে ৫ বা ১০ লাখ লোকের জন্য আমরা কি আইসিইউ দিতে পারব? আমরা কি ৫ লাখ লোকের মৃত্যু মেনে নেব? এখন স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর হবে, ‘না’। হার্ড ইমিউনিটির পথে হাঁটলে কঠিন মূল্য দিতে হবে জনগণকে। তাহলে আমরা হার্ড ইমিউনিটি বেছে নেব কি না, তার উত্তরও হবে না। এটা সম্ভব না। যুক্তরাজ্য এ পথে এগোচ্ছিল। তারা কোনো সামাজিক দূরত্ব মানছিল না। কিছুদিন পর তাদের বোধোদয় হয়েছে, এটা হবে না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।